মৌঃ রোস্তম আলী ভূঁঞা ১৮৮৯ সালে উত্তর বায়নগর বর্তমান হাটখোলা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন এবং ১৯৭৫ইং ১৭ মার্চ মৃত্যু বরণ করেন। তার পিতার নাম- জহির উদ্দিন। ছাত্র জীবনে গোমতা মাদ্রাসা ও চান্দিনা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে লেখা পড়া করেন। মৌঃ রোস্তম আলী ভূঁঞা কর্মজীবনে দৌলতপুর জমিদার বাড়ীতে ম্যানেজারের চাকুরী করেন। পরবর্তী সময়ে বৃটিশ সরকার হতে বায়নগর/লখাইতলী মৌজার জমিদারী ক্রনয় করেন। তখনই তিনি উত্তর বায়নগররের এই অংশের নাম করেন হাটখোলা। জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি জামদারী পরিচালনা করেন। সে আমলে হাতে গোনা মুসলিম জমিদার এর মধ্যে এই অঞ্চলে তিনি অগ্রগণ্য। তিনি প্রায় ৪০ বছর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ছিলেন। এ সময় তিনি ইউনিয়নের সদস্য, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রেসিডেন্টের দায়িত্বও পালন করেন। দৌলতপুর হইতে মোহাম্মদপুর ভায়া হাটখোলা রাস্তায় দৌলতপুর-হাটখোলা অংশটি তিনি নিজ খরচে নির্মাণ করেন। রাস্তা নির্মাণে অনেক ঘাত প্রতিঘাতের সম্মুখীন হন কিন্তু পিছ পা হননি। তিনি মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের বহু রাস্তা, পুল নির্মাণ করেন। ১৩১১ বাংলা সনে হাটখোলা গ্রামে নিজ বাড়িতে একটি পাকা মসজিদ নির্মাণ করেন এবং বসবাসের জন্য বিরাট পাকা ভবন নির্মাণ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সৎ, ধার্মিক, ন্যায় পরায়ণ, পরোপকারী ও বিনয়ী ছিলেন। তিনি সংস্কৃতিমনা ছিলেন। শিক্ষা সাংস্কৃতি ও খেলাধুলা প্রসারে তাঁর নাম স্বমহিমায় চির উজ্জ্বল। নিজ বাড়িতে বছরে একবার হলেও নাটক, যাত্রা, পালাগান উৎসবের আয়োজন করতেন। তৎকালীন সময়ে তিনি কলকাতা থেকে ছেলে মেয়েদের জন্য গ্রামোফোন, হারমোনিয়াম নিয়ে এসে গান চর্চা করার ব্যবস্থা করেন। মৌঃ রোস্তম আলী ভূঁঞার শিকারের প্রতি নেশা ছিল। মাঝে মধ্যে তিনি নিজের বন্দুক দিয়ে শখ করে শিকার করতেন। তিনি তাঁর নিজের ছেলেদের ইলিয়টগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশুনার সময় বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখিন হন এবং সমস্যার কারণে মেজ ছেলে আলী হোসেন ভূঁইয়াকে ইলিয়টগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বরকোটা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি করান। দাউদকান্দি উপজেলায় বৃহত্তর মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৩৩টি গ্রামে কোন উচ্চ বিদ্যালয় না থাকায় এলাকার দরিদ্র অবহেলিত ছেলে মেয়েদের কথা চিন্তা করে তিনি নিজ গ্রামের বাড়ীতে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
১৯৪০ দশকে নিজ বাগান বাড়ীতে প্রথমে পাঠশালা চালু করেন এবং পারিবারিক আপত্তির কারণে পাঠশালাটি বন্ধ হয়ে যায়। তাঁর চিন্তা চেতানায় বিদ্যালয় স্থাপনের স্বপ্নটি লালন করতে থাকেন। ১৯৫০ দশকের গোড়ার দিকে আবার নিজ বাগান বাড়ীতে প্রাথমিক বিদ্যালয় চালু করেন। দুঃখের বিষয় কয়েক বছর পর পারিবারিক অসহযোগিতার কারণে সেটিও বন্ধ হয়ে যায়। তবুও তিনি বসে থাকেননি। ১৯৬২ইং সালে তাঁর সুযোগ্য পুত্র আলী হোসেন ভূঁঞার সহযোগিতায় হাটখোলা নিজ বাড়িতে প্রাথমিক বিদ্যালয় পুনরায় চালু করেন এবং মৌঃ রোস্তম আলী ভূঁঞা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৩৩ শতক জমি দান করেন। অনেক চেষ্টার ফলে ১৯৬৮ইং সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়টি সরকারি স্বীকৃতি লাভকরে। মৌঃ রোস্তম আলী ভূঁঞা হাটখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর অনুপ্রেরণায় ১৯৬৮ইং সালে তাঁর সুযোগ্য সন্তান শিক্ষানুরাগী আলী হোসেন ভূঁঞা কর্তৃক উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্দেশ্যে প্রথমে নিজ বাগান বাড়ীতে ৬ষ্ঠ শ্রেণী চালু করেন। তৎকালীন সময় মৌলভী মোঃ আব্দুল ওয়াছেক ভূঁঞা প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। মৌঃ রোস্তম আলী ভূঁঞা হাটখোলা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভাবে সহযোগিতা করেন এবং উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য ১.২০ শতক জমি দান করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৯ইং সালে জুনিয়র এবং ১৯৭৩ইং সালে উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপন করেন এবং বিদ্যালয়টি মঞ্জুরী লাভ করে। ঐ বছরই বিদ্যালয় থেকে প্রথম এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। মৌঃ রোস্তম আলী ভূঁঞা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় হাটখোলা নিজ বাগান বাড়ীতে দৈনিক আড়ং ও সাপ্তাহিক হাট চালু করেন। কৌশল গত কারণে বিদ্যালয়টি বাজার সংলগ্ন হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পও স্থাপিত হয়। ১৯৭০ সালে তাঁর পুত্র আলী হোসেন ভূঁঞা কর্তৃক ডাকঘর স্থাপনেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তিনি হাটখোলা সরকারি প্রাইমারী বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন (১৯৬৮খ্রিঃ হইতে ১৯৭৩খ্রিঃ) সভাপতি ছিলেন। তিনি ২২ নং ইউনিয়ন কাউন্সিল বেঞ্চের নিয়মিত সদস্য এবং কুমিল্লা কোর্টের জুড়ীবোর্ডে\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\'র দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ৫ পুত্র ও ৫ কন্যার জনক। তাঁর পুত্রগণ সমাজে প্রতিষ্ঠিত এবং জনহিতকর কাজের সহিত সম্পৃক্ত।